সর্বাধিক পঠিত

বিজ্ঞাপন

undefined

undefined

Airtel

৫ লাখ লোক নেবে মালয়েশিয়া পিডিএফ প্রিন্ট ইমেইল

নিজস্ব প্রতিনিধি : মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানির সম্ভাবনাময় দেশ। সৌদি আরবের পরই মালয়েশিয়ার স্থান। মালয়েশিয়ার সঙ্গে বর্তমান সরকারের অত্যন্ত উন্নত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় জনশক্তি রফতানির সুযোগও প্রসারিত হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকারও তাদের জনশক্তি চাহিদার বড় অংশ বাংলাদেশ থেকেই মেটাতে চায়। আগামী দুই বছরের মধ্যে মালয়েশিয়ায় কমপৰে ৫ লাখ নির্মাণ ও কৃষি শ্রমিকসহ বিভিন্ন ৰেত্রে জনশক্তি রফতানির বিশাল সুযোগ হবে। তারা বেশ কয়েকটি কারখানা, অবকাঠামোসহ উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। শহরে নতুন নতুন বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ

করা হবে। বিপুলসংখ্যক নির্মাণশ্রমিক ছাড়াও প্রায় ৫০ হাজার কৃষিশ্রমিক ও ২৫ হাজার জেলে নিতে চায় তারা। ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, ভারত এই সুযোগ নিতে সচেষ্ট। মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দিলেও বাংলাদেশের বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির আদম বাণিজ্য তারা মেনে নিতে পারছে না। তাদের অসাধুতা, মুনাফাখোরী প্রবণতার কারণেই এখানকার দরিদ্র মানুষ মালয়েশিয়ায় গিয়ে অমানবিক জীবনযাপন করছে। অনেকে অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থার অবসান ঘটানো না হলে তারা বাংলাদেশ থেকে উলেস্নখযোগ্য হারে জনশক্তি আমদানি করবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে। গত জানুয়ারি-ফেব্রম্নয়ারিতেই মালয়েশিয়ার জনশক্তি রফতানির বাজার বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা ছিল। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে এসেছিল। বৈধ, অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সঙ্গেও তারা কথা বলেছেন। বাংলাদেশিরা তাদের কাছে জানিয়েছে, বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তারা দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় এসেছেন। অস্বাভাবিক রকম বেশি ব্যয় পড়ায় তারা নিরুপায় হয়েই এখানে নানা অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছেন। অর্থাভাবে এখানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
মালয়েশিয়ায় প্রায় দুই লাখ জনশক্তি অবৈধভাবে রয়েছে। তাদের বৈধ কাজের সংস্থান করার প্রলোভন দেখিয়ে এ দেশে আনা হয়। কিন্তু মালয়েশিয়ায় আসার পর তারা দেখতে পান পুরো বিপরীত চিত্র। অনেক কষ্টে খেয়ে না-খেয়ে তারা এখানে বেঁচে আছেন। মালয়েশিয়া সরকারের লোকজন এদের সঙ্গে কথা বলে এজেন্সিগুলোকে অনেক বেশি টাকা দিয়ে এখানে কাজের নিশ্চয়তা ছাড়া অথবা প্রতিশ্রম্নত অর্থের চেয়ে অনেক কম বেতনে কাজের ব্যবস্থা করা এবং কাজ না পেয়ে দিনের পর দিন পালিয়ে বেড়ানো, মানবেতর জীবনযাপনের কাহিনী জেনেছেন। মালয়েশিয়া সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বৈধভাবে থাকার সুযোগ দিচ্ছে। বর্তমান সরকারের সঙ্গে উন্নত সম্পর্কের কারণে তারা অবৈধ অভিবাসীদের আর জোর করে বের করে দিচ্ছে না, জেলে পুরছে না। কিন্তু মালয়েশিয়া কতর্ৃপৰ বিষয়টি মেনে নেয়নি। বেসরকারি রিক্রুটি এজেন্সিগুলোর বেনিয়া আচরণ বন্ধ করা সাপেৰেই তারা বাংলাদেশ থেকে লোক নেওয়ার এবং সোর্স কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত দিয়েছে। ভারত, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, নেপাল তাদের সোর্স কান্ট্রি। অথচ বাংলাদেশ নয়। বাংলাদেশ সরকার অব্যাহতভাবে চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু মালয়েশিয়া কতর্ৃপৰ রাজি হয়নি। এখন তারা রাজি হয়েছে। মন্ত্রিসভায় আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিগগিরই তারা বাংলাদেশকে সোর্স কান্ট্রি হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবে। বিপুলসংখ্যক জনশক্তিও আমদানি করবে। জুলাইয়ের শেষ নাগাদ মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসবেন। তিনি বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করবেন। রফতানি করা জনশক্তির কাছ থেকে অভিবাসন ব্যয় খাতে কোনোভাবেই যাতে বেশি না নেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে চায় তারা। প্রকৃত খরচ অনুযায়ীই অভিবাসন ব্যয় ধরতে বলেছে। তারা বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। তারা বাস্তব খরচের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ নিয়ে থাকে বলেই বিষয়টি মানবিক সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। মালয়েশিয়া বাংলাদেশ সরকারকে সরকারিভাবে লোক পাঠাতে বলেছে। রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে জনশক্তি পাঠানো হলে তারা তাদের গ্রহণ করবে না। ফেরত পাঠাবে বলে সরকারকে সতর্ক করেছে। এ অবস্থায় সরকার সরকারি ব্যবস্থাপনায় জনশক্তি পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। তবে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব ড. জাফর আহমদ খান এ প্রতিবেদককে বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই মালয়েশিয়া কমপৰে ২ লাখ লোক নেবে। পরবর্তী এক বছরে আরো ২ থেকে ৩ লাখ লোক নেবে। সরকারিভাবে এই বিপুল জনশক্তি রফতানি করা সম্ভব নয়। আবার রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মালয়েশিয়া কতর্ৃপৰের কাছে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নও রয়েছে। এ কারণে সরকার প্রথম দিকে সরকারিভাবেই লোক পাঠাবে। মাস ছয়েকের মধ্যেই রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে যাতে গ্রহণ করা হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে তাদের আচরণ, কার্যকলাপের মাধ্যমেই তা করতে হবে। তারা যে লোক পাঠাবে, মালয়েশিয়া কতর্ৃপৰ তাদের প্রত্যেককে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হবে তাদের কাছ থেকে এজেন্সি অতিরিক্ত টাকা নেয় কিনা। এ ব্যাপারে সরকারকেও নিশ্চয়তা দিতে হবে। মালয়েশিয়া সরকারের এই অনমনীয় মনোভাব মেনে নিতে পারছে না স্থানীয় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। তারা উল্টো সরকারকে দোষারূপ করেছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানির ৰেত্রে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা খরচ নির্ধারণ করেছে। সরকারিভাবে যে জনশক্তি করা হবে, সেৰেত্রেই সাকল্যে এই খরচ রাখা হবে। পরবর্তী সময়ে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোও এর চেয়ে বেশি অর্থ রাখতে পারবে না। এখানেই আপত্তি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর। তারা এটা বাস্তবভিত্তিক নয় বলে দাবি করছে। মন্ত্রণালয় থেকে তাদের দাবি অযৌক্তিক বলে বলা হয়েছে। বলেছে, ভিসা সংগ্রহ করতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জনপ্রতি ৬০-৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়। মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে সোর্স কান্ট্রি ঘোষণা করলে ভিসা সংগ্রহ বাবদ কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। মালয়েশিয়ার কোনো দালালচক্র ধরতে হবে না। এ কারণে এ খাতে খরচও হবে না। সরকারিভাবেই চাহিদা আসবে। লেভি বাবদ যে অর্থ ব্যয় হবে, তাও বহন করবে নিয়োগকর্তা। বিমানভাড়া, মেডিকেল ও পাসপোর্টসহ খাতওয়ারী মোট খরচের ওপর ১০ শতাংশ প্রফিট ধরতে পারবে রিক্রুটিং এজেন্ট। কোনো অবস্থাতেই এর বেশি টাকা তারা নিতে পারবে না। যদি নিয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেই রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও আর্থিক জরিমানা করা হবে। এ ব্যবস্থা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মানতে রাজি নয়। কারণ, তাতে তাদের আদম-বাণিজ্য তেমন একটা থাকে না। যেখানে তারা মাথাপিছু ১ লাখ টাকা লাভ করে, সেখানে ১০ শতাংশে সন্তুষ্ট হবে কেন? বাংলাদেশকে সোর্স কান্ট্রি ঘোষণা করা হোক, তাও তারা চাচ্ছে না। নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থে এরা এর বিরোধিতা করছে। এ ব্যাপারে মালয়েশিয়ায় তাদের শক্তিশালী চক্র রয়েছে। তারা সে দেশের সরকারের মধ্যেও প্রভাব সৃষ্টির চেষ্টা করছে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আসবেন সরকারি ব্যবস্থাপনার প্রকৃত অবস্থা দেখার জন্য। বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গেও তিনি কথা বলবেন। তবে এ পর্যায়ে তাদের সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের নিশ্চিত প্রতিশ্রম্নতির ওপরই তা নির্ভর করবে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো সোর্স কান্ট্রির সুবিধা পাওয়ার চেয়ে আউট সোর্সিং করতেই অধিকতর আগ্রহী। কিন্তু সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বার্থে তাদের বেনিয়া আচরণের সুযোগ সৃষ্টিকারী কোনো প্রক্রিয়ায় যাবে না।

 

সর্বশেষ ২৪

অনুসন্ধান

ABC Radio
 

 

এই মুহূর্তে

আমাদের সাথে আছে 3 অতিথি অনলাইন

 

boshudha.com

Bashundhara Group

 
 
 
 
 
Editor: Maynul Haque Pabon

The daily Nobojug.com 7,Rajuk venue,Motijheel C/A,Dhaka-1000.

01711983269, 01750005860, Email: editornobojug@gmail.com, mhpabon@yahoo.com, nobojug123@gmail.com, website:www.dailynobojug.com , nobojugbd.com